তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার জ্বালানি তেলের দাম ১১০ ডলারে

তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তিতে অচলাবস্থা দেখা দেয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

গতকাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪ শতাংশ বেড়ে নিউইয়র্কের সকালের লেনদেনে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ১৭ সেন্টে কেনাবেচা হয়েছে। অথচ এ বছরের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে। সংঘাতের একপর্যায়ে তা সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে উঠেছিল।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরো বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বন্ড মার্কেটে ধস নেমেছে। যুক্তরাজ্যে ১০ বছর মেয়াদি গিল্ট ইল্ড বা মুনাফার হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা গত মার্চের পর সর্বোচ্চ। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড ৫ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এ শতাব্দীর অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এর আগে ৭ এপ্রিল শেষবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুড ১১০ ডলারের ওপরে লেনদেন হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে ১৭ এপ্রিল তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৬ ডলারে নেমে এসেছিল। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি যত বেশিদিন বন্ধ থাকবে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তত গভীর হবে।

এদিকে, জ্বালানি বাজারের এ অস্থিরতার মধ্যেই বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ সংগঠন ‘ওপেক’ ও ‘ওপেক প্লাস’ থেকে বেরিয়ে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। উৎপাদন নীতি ও সক্ষমতার বিস্তারিত পর্যালোচনার পর জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে আঞ্চলিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রেখেছে। এ প্রস্থানের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। ওপেক মূলত সদস্যদেশগুলোর উৎপাদন সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করে। ইউএইর মতো একটি বড় উৎপাদনকারী দেশ বেরিয়ে গেলে সংগঠনের সামগ্রিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

তবে বাজারের এ অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ মুনাফা করেছে লন্ডনভিত্তিক জ্বালানি জায়ান্ট ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড), যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এ অভাবনীয় সাফল্যের পর শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

আরও